প্রকাশিত: Fri, Apr 7, 2023 6:24 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:37 AM

সরকারের উদাসীনতায় দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে: মির্জা ফখরুল

রিয়াদ হাসান: আগুন লাগার জন্য সরকারকে দায়ী করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সঠিকভাবে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণেই কয়েকদিন পরপর বঙ্গবাজারের মতো আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে। এজন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। গত ৪ এপ্রিল বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আজকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, সভায় ঢাকার বঙ্গবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ব্যবসায়ীদের ক্ষয়ক্ষতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করা হয়। সভা মনে করে, পরপর এই ধরনের অগ্নিকাণ্ডের বিষয় নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার ফলেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর উদাসীনতা, অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নজরদারির অভাবের কারণে ভয়াবহ পরিণতির স্বীকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অনির্বাচিত সরকারের ব্যর্থতার কারণে সামগ্রিকভাবে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি বিভাগগুলোর কর্মকর্তাদের তোষণনীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নির্বাচনের কারণে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধির কোনো জবাবদিহি না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সভায় বঙ্গবাজারসহ অন্যান্য স্থানে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ এবং অবিলম্বে বঙ্গবাজারসহ সকল বাজারে অগ্নিনির্বাপণ ও সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের দাবি জানানো হয়।

তিনি বলেন, সম্প্রতি জার্মান মিডিয়া হাউস ‘ডয়চে ভেলে’ কর্তৃক সোশ্যাল মিডিয়ায় র‌্যাবের অপকর্মের ডকুমেন্টারি প্রকাশিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এ ডকুমেন্টারি প্রমাণ করেছে, অনির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। সভা অবিলম্বে সংবিধানবিরোধী, মানবাধিকারবিরোধী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার জোর দাবি জানায়।

বিএনপি মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, আন্দোলন থেকে দূরে রাখতে সারা দেশে নেতাকর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে সরকার। ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশকে। অনির্বাচিত সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবৈধভাবে ব্যবহার করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য এ কাজগুলো করছে। আমরা বাধ্য হব এসব ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। আন্দোলনের মাধ্যমে এগুলোর রাজনৈতিক জবাব দেয়া হবে। সেই সময় আসছে যারা এর সঙ্গে জড়িত তাদের জনগণ ক্ষমা করবে না।

স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। মহাসচিব বৈঠকের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নের অগ্রগতি সম্পর্কে সভাকে অবহিত করেন। সম্পাদনা: বসুনিয়া